Pages

Tuesday, June 3, 2014

বাণিজ্যিক ভাবে বিদেশে রপ্তানী করে অর্থ উপার্জন সম্ভব ।। দক্ষিণ চট্টগ্রামে মাশরুম চাষ এখন জনপ্রিয়

বাণিজ্যিক ভাবে বিদেশে রপ্তানী করে অর্থ উপার্জন সম্ভব ।। 
দক্ষিণ চট্টগ্রামে মাশরুম চাষ এখন জনপ্রিয়



আলমগীর আলম ।। পটিয়া
পুষ্টি, ঔষুধি গুণে ভরা হারবাল সবজি হিসেবে খ্যাত মাশরুম চাষ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে বহু গুণে। ইতোমধ্যে অনেকে এ মাশরুম চাষ করে সফলতার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বিদেশেও রফতানী করছে মাশরুম। কম সময়ে স্বল্প পুঁজিতে মাশরুম চাষে সফলতা আসায় মাশরুম চাষের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সখ করেও অনেকে নিজ বাড়ীতে মাশরুম চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবেও বাড়তি স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে।
মাত্র স্বল্পসময়ের মধ্যে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে পুষ্টিগুণে সম্মৃদ্ধ এই মাশরুম চাষ। উপজেলা পর্যায় সরকারীভাবে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ ও স্বল্প পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকারের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করাও সম্ভব হবে বলে মনে করছেন মাশরুম চাষীরা।
মাশরুম প্রশিক্ষনার্থী আনসারুল হক জানান মাশরুম এক প্রকার উদ্ভিদ, ঠিক যেন ব্যাঙের ছাতার মত দেখতে। মাশরুম নিয়মিত খেলে ক্যানসার, উচ্চ রক্ত চাপ, হৃদরোগ, ব্রংকাইটিস, এজমা, জন্ডিস, রক্ত শূন্যতা, যৌন অক্ষমতা, কিডনি, আলসার, পাইলস, বন্ধ্যাত্ব, ডেংগু জ্বর, প্রভৃতি জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাছাড়া মাশরুম টনিকের মত মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরে জমে থাকা কোলেষ্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এ কারণে উন্নত বিশ্বে মাশরুমকে দেয়া হয় আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব।
চীন, জাপানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে দীর্ঘ জীবন লাভের খাবার হিসেবে মাশরুমের কদর বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ। স্যুপ, মাছ, ফ্রাই, মাংস, ডিম, সবজি, নুডুল্‌স, ওমলেটকারীসহ বিভিন্ন খাদ্যের সাথে মাশরুম খাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের নামী-দামী ফাস্ট ফুডের দোকানে মাশরুমের খাদ্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা মীম মাশরুম জোনের স্বত্ত্বাধিকারী হাজী আবু ছালেহ জানান ২০০৪ সাল থেকে তারা বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করে সফলতা পেয়েছে। বর্তমানে তারা দৈনিক ৩০-৩৫ কেজি মাশরুম উৎপাদন করে থাকে। এছাড়া মাশরুমের তৈরী খাদ্য সামগ্রী বাণিজ্যিকভাবে তৈরী করছে। এর মধ্যে মাশরুম আচার, জেলী, সস, অন্যতম। তিনি জানান, সরকারীভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বিদেশে মাশরুম রপ্তানী করার ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। ফলে তাদের ঢাকায় গিয়ে মাশরুম বিদেশে রপ্তানী করতে সীমাহিন কষ্ট পেতে হয়। এ ব্যাপারে সরকারী সুযোগ সুবিধা ও সহযোগিতা দেয়ার কথা বললেও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাশরুম চাষ গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাশরুম প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু করা গেলেই হাজার হাজার মানুষের যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনি সাধারন মানুষ মাশরুম চাষে এগিয়ে আসবে। তাই সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।




Sunday, June 1, 2014

বাংলাদেশে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা


আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বসত বাড়ীর আনাচে কানাচে ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে জায়গায় কিম্বা স্তুপিকৃত গোবর রাখার স্থানে ছাতার আকৃতি সাদা রঙের এক ধরণের উদ্ভিদ জন্মাতে দেখা যায়। একে আমরা ব্যাঙের ছাতা বলে অভিহিত করে থাকি। আগাছার মতো যত্র-তত্র গজিয়ে উঠা এ সকল উদ্ভিদ খাবার উপযোগী নয়। তবে প্রায় অনুরূপ দেখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে যে ব্যাঙের ছাতা উৎপাদিত হয় তা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সারা বিশ্বে সব্জি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই ব্যাঙের ছাতাকে ইংরেজীতে “মাশরুম” বলা হয় । মাশরুম এক ধরণের ছত্রাক যা পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন সবজি। মাশরুমের চাষ এবং এর ব্যবহার আমাদের দেশে এখনও তেমন প্রসার ঘটেনি। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে শুধুমাত্র চায়নীজ রেস্তোরা গুলোতে মাশরুম স্যুপ একটি উপাদেয় খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে। তবে পৃথিবীর বহু দেশে স্যুপ ছাড়াও ইহা অন্যান্য সব্জীর ন্যায় খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাশরুম একদিকে যেমন অত্যন্ত কম সময়ে উৎপাদিত হয় তেমনি ইহা রান্না করতেও সময় কম লাগে। মাত্র তিন-চার মিনিটেই মাশরুম সিদ্ধ হয়ে যায়।


মাশরুমের পুষ্টিমানঃ
মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমিষ এবং হজমে সাহায্যকারী এন্জাইম রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে থাকে ৩.১ গ্রাম আমিষ, ০.৮ গ্রাম স্নেহ, ১.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.৪ গ্রাম আঁশ, ৪.৩ গ্রাম শর্করা, ৬ মিঃ গ্রাম কেলসিয়াম, ১১০ মিঃ গ্রাম ফসফরাস, ১.৫ মিঃ গ্রাম লৌহ, ০.১৪ মিঃ গ্রাম ভিটামিন বি১, ০.১৬ মিঃ গ্রাম বি২, ২.৪ মিঃ গ্রাম নায়াসিন, ১২ মিঃ গ্রাম ভিটামিন সি। এছাড়া খাদ্যশক্তি থাকে ৪৩ কেলোরি। সাধারনতঃ মাশরুমে মাছ-মাংসের চেয়ে কিছু বেশী এবং প্রচলিত শাক-সব্জীর চেয়ে দ্বিগুণ খনিজ পদার্থ থাকে। আমিষের পরিমাণ থাকে বাঁধাকপি ও অন্যান্য শাক-সব্জীর চেয়ে চারগুণ। এছাড়াও এতে যে ফলিক এসিড থাকে তা এ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। বহুমুত্র রোগী এবং যারা মোটা তাদের জন্য মাশরুম একটি উত্তম খাবার। ইহা খেতে বেশ সুস্বাদু এবং সহজেই হজম হয়। 



মাশরুমের ঔষধিগুণঃ
মাশরুমে যেসকল ঔষধিগুণ রয়েছে তা নিম্নে বর্ণিত হলো-
- মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের এমন সমন্বয় আছে যা মানব দেহের ’ইমুন সিষ্টেম’ কে উন্নত করে। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত মাশরুম খেলে তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ মতা বৃদ্ধি পায়। 
- মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম থাকায় এবং আঁশ বেশি থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়।
- শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টনিন এবং এনটাডেনিন মাশরুমে বিদ্যমান থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ হবার সম্ভাবনা কম থাকে।
- মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি থাকায় তা শিশুদের হাড় ও দাঁতের গঠনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড ও লৌহ থাকায় তা রক্ত শূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া লিংকজাই-৮ নামক পদার্থ বিদ্যমান থাকায় তা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস জনিত জন্ডিসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
- মাশরুমে আছে ই-উ গুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন যা টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
-মাশরুমে ট্রাইটারপিন নামক উপাদান থাকায় তা বর্তমানে এইডস’এর প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
-মাশরুমে ইলুডিন-এম এবং ইলুডিন-এস নামক উপাদান রয়েছে যা আমাশয়ের জন্য উপকারি।
-মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে গাইকোজেন রয়েছে যা শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
-মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় এটি ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। 
- মাশরুমে স্ফিঙ্গলিপিড এবং ভিটামিন বি-১২ বেশি থাকায় তা স্নায়ুতন্ত্র ওস্পাইনাল কর্ড সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই মাশরুম খেলে হাইপারটেনশন দূর হয় এবং মেরুদন্ড দৃঢ় করে। 
- মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম থাকায় তা হজমে সহায়ক, রুচি বর্ধক এবং পেটের পীড়া নিরামক হিসেবে সহায়তা করে। 
- মাশরুমে নিউকিক এসিড এবং এন্টি-এলার্জেন থাকায় তা কিডনী রোগ ও এলার্জি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। 
- মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড থাকায় এটা নিয়মিত খেলে চুল পাকা ও চুল পড়া প্রতিরোধ করে। 

মাশরুম চাষের উপযোগী স্থান ও সময়ঃ 
মাশরুম চাষ বেশ লাভজনক। মাত্র ১০-১৫ দিনেই খাবার উপযোগী হয়। ইহা চাষের জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজ লভ্য। বেকার যুবক এবং মহিলারা ঘরে বসেই এর চাষ করতে পারেন। অন্যান্য সব্জীর তুলনায় বাজারে এর দাম অনেক বেশী এজন্য ইহা চাষ করা লাভজনক। অভ্যন্তরীণ বাজার ছাড়াও বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ বিদ্যমান। গ্রীষ্মকালে যে কোন চালা ঘরের নীচে এবং বারান্দায় এর চাষ করা যায়। বর্ষাকালে পানি প্রবেশ করে না অথচ বাতাস চলাচলের সুবিধা আছে এমন ঘরে মাশরুম চাষ করতে হয়। শীতকালে ভেজা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে এর চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে ”স্ট্র মাশরুম” এবং শীতকালে ”ওয়েষ্টার” জাতের মাশরুম চাষের জন্য উপযোগী। এদু’টি জাত ছাড়াও ঋষি মাশরুম, মিল্কী মাশরুম, শিতাকে মাশরুম, বাটন মাশরুম প্রভৃতি জাতের মাশরুম রয়েছে। 

মাশরুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণঃ 
(ক) মাশরুম এর বীজ বা স্পন।
(খ) বেড বা মাদা তৈরীর জন্য ধানের শুকনা খড়।
(গ) বেডের স্তরে ও উপরে ব্যবহারের জন্য মিলের ছাঁট তুলা/শিমুল তুলা এবং ধানের কুঁড়া/ছোলার বেসন।
(ঘ) খড় ভেজানোর জন্য ড্রাম বা মাটির বড় চাড়ি/গামলা।
(ঙ) বেডের তলায় ও উপরে ব্যবহারের জন্য পলিথিন কাগজ।
(চ) মাপ মত বেড তৈরীর জন্য একটি কাঠের তলা বিহীন বাক্রা (১ মিটার * ৩০ সেঃমিঃ * ৩০ সেঃমিঃ আয়তনের)।

মাশরুম চাষ পদ্ধতিঃ
- পরিমাণ মত শুকনো পরিস্কার ধানের খড় সংগ্রহ করে পানি ভর্তি ড্রামের মধ্যে কিম্বা মাটির বড় চাড়ির মধ্যে ভালভাবে নেড়েচেড়ে ভিজিয়ে নিন।
- ভেজানো খড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে অতিরিক্ত পানি বের হতে দিন।
- এবার ভেজা খড়গুলো একটা পলিথিন কাগজের উপর স্তুপ করে রেখে তার উপর আর একটি পলিথিন কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঢেকে ২৪ ঘন্টা রেখে দিন।
- পরিমাণ মত শিমুল তুলা কিম্বা মিলের পরিত্যক্ত তুলা একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন।
- যে ঘরে বা স্থানে মাশরুম চাষ করা হবে সে জায়গা ভালভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে দিন।
- এক মিটার লম্বা, এক মিটার চওড়া এবং ৩০ সিঃমিঃ উচু তলাবিহীন কাঠের ফরমা বা বাক্রাটি পলিথিন বিছানো কাগজের উপর রাখুন।
এখন কাঠের ফরমার মধ্যে সমানভাবে ভিজা খড় একটু চাপ দিয়ে সাজাতে থাকুন যেন বিছানো খড়ের স্তর ৮-১০ সেঃমিঃ পুরু বা উচুঁ হয়।
- চারিদিকে খড়ের স্তুপের কিনার থেকে ৫ সেঃমি ছেড়ে এক সেঃমি পুরু ও ৫ সেঃমিঃ চওড়া করে ভিজা তুলা ঠিকমত বিছিয়ে দিন।
- বীজ ছিটানোর পর একই নিয়মে পুনরায় ৮-১০ সেঃমিঃ করে খড় বিছিয়ে ২য় স্তর তৈরী করে একইভাবে তুলা বিছিয়ে তাতে মাশরুম বীজ ছড়িয়ে দিন।
- এরপর একই ভাবে ৩য় স্তর তৈরী হলে বেডের উপরের সমস্ত অংশে তুলা ছড়িয়ে তার উপর মাশরুম বীজ বুনে পুনরায় হালকাভাবে সামান্য খড় ছিটানোর পর বাক্রাটি ভরে গেলে সাবধানে তুলে নিন।
- একই নিয়মে পাশাপাশি ১০সেঃ মিঃ ফাঁকে ফাঁকে একটির পর একটি বেড প্রয়োজন মত বসাতে থাকুন। 
- প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাজানো শেষ হলে সমস্ত বেডগুলো পলিথিন কাগজ অথবা চট দিয়ে ঢেকে দিন।

মাশরুমের পরিচর্যাঃ
- মাশরুম বেডে বীজ বপনের পর থেকে গজানোর পূর্ব পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫-৪৫ সেঃ এর মধ্যে রাখা দরকার এবং মাশরুম গজাতে আরম্ভ করলে তাপমাত্রা ৩০-৩৫ সেঃ এর মধ্যে রাখতে হবে।
- পলিথিন দ্বারা ভালভাবে ঢেকে তাপ বাড়ানো এবং খুলে দিয়ে তাপ কমানো যায়। কাজেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।
- মাশরুম বেডকে পোকা-মাকড় ও জীব-জন্তুর উপদ্রব থেকে রা করুন।
- মাশরুম বেড সব সময় ভেজা থাকা দরকার। বেডের উপরি ভাগ শুকিয়ে গেলে মাঝে মাঝে হালকাভাবে পানি ছিটিয়ে আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন।

মাশরুম সংগ্রহ :
- মাশরুম বেডে বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে আলপিনের মাথার আকারে মাশরুম গজানোর লক্ষণ দেখা যায়। মাত্র ২ দিনের মধ্যে এ অবস্থা পেরিয়ে মাশরুম দেশীয় মুরগীর ডিমের আকার ধারণ করে। এ অবস্থা মাশরুম সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।
- সংগ্রহে বিলম্ব হলে মাশরুম ছাতার মত হয়ে ফুটে যায় এবং এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই সমযমত মাশরুম সংগ্রহ করা আবশ্যক।
- একটা বেড থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত দফায় দফায় মাশরুম সংগ্রহ করা যায়।
- মাশরুম সংগ্রহ শেষ হলে বেডের সমস্ত আবর্জনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে পরের বারের জন্য মাশরুম চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

মাশরুম সংরক্ষণঃ
- মাশরুম তাজা অবস্থায় রান্না করে খাওয়া উত্তম।
- পলিথিন ব্যাগে সাধারণ ভাবে মাশরুম ১০-১৫ ঘন্টা পর্যন্ত ভাল থাকে।
- রিফ্রিজারেটরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত মাশরুম অনায়াসে সংরণ করা যায়।
- রোদে শুকিয়ে নিয়ে মাশরুম দীর্ঘ সময় ধরে সংরণ করা যায়। 
- রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট টিনে বহুদিন যাবৎ সংরণ করে খাওয়া চলে।

অন্যান্য তথ্যাবলীঃ
- ৫ মিটার লম্বা ও ৪ মিটার চওড়া ঘরের মেঝেতে পূর্বে বর্ণিত পরিমাপের ৩০ টি বেডে একত্রে মাশরুম চাষ করা যায়।
- তাক বা র‌্যাক তৈরী করে তাতে চাষ করলে এ সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা যায়।
- প্রতি বেডে গড়ে এক কেজি ’ষ্ট্র’ জাতের মাশরুম ফলে।
- বেড প্রতি ৩-৪ কেজি খড়, ২০০ গ্রাম তুলা এবং ১০০-১৫০ গ্রাম মাশরুম বীজের প্রয়োজন হয়।
- বীজ বপন থেকে আরম্ভ করে মাশরুম সংগ্রহ পর্যন্ত একটা ফসল চক্র শেষ হতে সর্বমোট ২০ দিন সময় লাগে। অন্য কোন সব্জী এত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব নয়।
- এক কেজি মাশরুমের বর্তমান বাজার মূল্য ১৫০/= টাকা থেকে ২০০/- টাকা। (গড়ে ১৭০/- টাকা।)
- এক কেজি মাশরুম উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৭০/= টাকা।
- ৫ মিটার দ্ধ৪ মিটার আয়তনের একটা ঘরের মেঝেতে ৩০ টি বেডে মাশরুম চাষ করে প্রতি ২০ দিনে খরচ বাদে ৩০০০/= টাকা মুনাফা অর্জন করা সম্ভব (১৭০-৭০=১০০ টাকা * ৩০ টি বেড = ৩০০০/= টাকা)। বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করে উৎপাদনের পরিমাণ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
- ৫ মিটার *৪ মিটার আয়তনের একটা ঘরে বাঁশের তাক তৈরী করে (৩০টি * ৪ তাক) ১২০ টি বেডে মাশরুম চাষ করে প্রতি ২০ দিনে ১২০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত মাশরুম প্রতিকেজি বর্তমান বাজার মূল্য ১৭০/= টাকায় বিক্রয় করলে ( ১৭০/ টাকা *১২০কেজি)=২০,৪০০/= টাকা পাওয়া যাবে। যা থেকে ৮,৪০০/- টাকা 
খরচ বাদ দিয়ে ১২,০০০/-টাকা নীট মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। 

মাশরুম রন্ধন প্রণালীঃ 
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মাশরুম দ্বারা খাবার প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের চায়নীজ রেস্তোরা গুলোতে প্রধানতঃ মাশরুমের সুপ উপাদেয় খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া মাশরুম ভাজি হিসেবে কিম্বা অন্যান্য সব্জীর সাথে একত্রে রান্না করে খাওয়া যায়। নারিকেল দিয়ে যেভাবে চিংড়ি রান্না করা হয় অনুরূপ ভাবে চিংড়ি দিয়ে মাশরুম রান্না খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। নিম্নে মাশরুম দ্বারা রান্না করা কয়েকটি খাবার তৈরীর নিয়মাবলী দেয়া হলো।

(১) মাশরুম সুপ (৫ জনের জন্য)
উপকরণঃ 
মাশরুম - ৫০ গ্রাম
পেঁয়াজ - ১ টা (বড়)
দুধ - ২ কাপ
পানি - ৩ কাপ
কর্ণ ফাওয়ার - ১ টেবিল চামচ
বাটারওয়েল/সয়াবীন তৈল - ২০ গ্রাম
লবণ - পরিমাণ মত
রন্ধন পদ্ধতিঃ-
(ক) মাশরুম এবং পেঁয়াজ চাকা চাকা করে কাটুন। এগুলো হাঁড়িতে ফেলে তৈল/বাটারওয়েল দিয়ে হালকা ভাবে ভেজে নিন।
(খ) এবার দুধ ও পানি ঢেলে পাঁচ মিনিট সময় ফুটিয়ে নিন।
(গ) একটা কাপে অল্প পানিতে কর্ণ ফাওয়ার গুলো হাঁড়িতে ঢেলে পাঁচ মিনিট সিদ্ধ করে নামিয়ে গরম থাকতেই পরিবেশন করুন।

(২) মাশরুম চিকেন মিক্রাড সুপ (৫ জনের জন্য)
উপকরণঃ 
মাশরুম - ১০০ গ্রাম
বাটার/তৈল - ১০ গ্রাম
দুধ - ২৫০ মিঃ লিঃ
মুরগীর মাংসের কীমা - ৫০০ গ্রাম
ময়দা - ১ টেবিল চামচ
ডিমের কুসুম - ১ টা
ক্রীম - ২ টেবিল চামচ
লবণ - পরিমাণ মত
রন্ধন পদ্ধতি
(ক) মাশরুম পিঁষে নিয়ে দুধ, লবণ, মরিচ ও মাংস দিয়ে দশ মিনিটকাল ফুটান।
(খ) অন্য একটা পাত্রে বাটার/তৈল দিয়ে ময়দা ভেঁজে ধীরে ধীরে সুপের মধ্যে ঢেলে নাড়তে থাকুন।
(গ) এবার চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হলে ডিমের কুসুমটি সুপের সাথে মিশিয়ে দিন।
(ঘ) পরিবেশনের আগে আবার সামান্য গরম করে ক্রীম মিশিয়ে নিন।

(৩) মাশরুম ফ্রাই
উপকরণ
৬ টি মাঝারী সাইজের মাশরুম
ডিম - ১ টি
ময়দা - ২ টেবিল চামচ
সামান্য বেকিং পাইডার, পরিমাণ মত লবণ এবং গোলমরিচ। শুকনা পাউরুটির গুড়া এবং সোয়াবিন তৈল।

রন্ধন পদ্ধতিঃ
(ক) একটা পাত্রে ডিম ভেংগে ময়দা, লবণ, মরিচ ইত্যাদির সাথে প্রয়োজন মত পানি মিশ্রিত করে পেষ্টের মত করুন।
(খ) মাশরুমগুলো উক্ত ঘন পেষ্টের মধ্যে চুবিয়ে নিয়ে পাউরুটির গুড়োর উপর রোল করুন।
(গ) পাত্রে তৈল গরম করে তাতে কয়েকটি মাশরুম একত্রে ভেজে গরম থাকতে থাকতে পরিবেশন করুন।

মাশরুম দ্বারা উপরোক্ত খাদ্যগুলি ছাড়াও সস, চটপটি, নিরামিশ, ভর্তা, আচার, চাটনি প্রভৃতি বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরী করা যায়।


মাশরুম চাষ বেকারত্ব ঘোচাতে পারে

মাশরুম চাষ বেকারত্ব ঘোচাতে পারে


মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ভিটামিন 'ডি' এবং প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড লৌহ পাওয়া যায়। তাই মানুষ নানাভাবে মাশরুমকে খাদ্য হিসেবে আহরণ করতে শুরু করেছে। ফলে দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে। দেশের কোন কোন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর চাষ শুরু হয়েছে। তবে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক আকারে এর চাষ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

রাঙ্গামাটির জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সমপ্রসারণ উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় মাশরুম চাষের বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর পাশাপাশি সংস্থাটি ৯০০ জন বেকার নারী পুরুষকে মাশরুম চাষের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে হাজার জনকে। প্রশিক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কার্যক্রমের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার রাঙ্গাপানি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সেখানে ৪টি মাশরুম পল্লী গড়ে উঠেছে। পল্লীগুলো হচ্ছে_ মনোঘর মাশরুম পল্লী সমিতি, রাঙ্গাপানি মাশরুম পল্লী সমিতি, টেকনিক্যাল পাড়া মাশরুম পল্লী সমিতি ভেদভেদি মাশরুম পল্লী সমিতি। প্রতিটি সমিতিতে ৫০ জন করে মোট ২০০ জন চাষি তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে মাশরুম চাষের ওপর। পল্লীর চাষিরা দৈনিক মাথাপিছু গড়ে - কেজি মাশরুম ৎপাদন করে। বাজারে প্রতি কেজি মাশরুমের দাম ১২০-১৫০ টাকা। মাশরুম চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় অনেক যুবক-যুবতী নিজেদের বেকারত্ব ঘোচাতে এখন মাশরুম চাষকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, মাশরুম চাষ সমপ্রসারিত করার দায়িত্ব উন্নয়ন সমপ্রসারণ উপকেন্দ্রের। এরপরও পার্বত্য জেলা পরিষদ মাশরুম চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা তাদের কৃষি ঋণের সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
মাশরুম চাষি রুবেশ চাকমা বলেন, একজন মানুষ মাশরুম চাষ করে খুব সহজে বেকারত্ব দূরীকরণসহ নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারে। শুধু মাশরুম চাষ করেই তিনি তার সংসারের যাবতীয় চাহিদা মেটাচ্ছেন। তবে মাশরুমের বীজ সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।
মাশরুম উন্নয়ন সমপ্রসারণ উপ-কেন্দ্রের কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান, কামাল হোসেন, আনিসুর রহমান বাবলা বড়ুয়া বীজ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ল্যাবরেটরি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০টি এবং পর্যন্ত ৮০ হাজার মাশরুম স্পন প্যাকেট চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু চাষিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে চাহিদার তুলনায় বীজ সরবরাহ কখনও কখনও কম হয়। তবে সব কৃষকদের বীজ সরবরাহ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। লোকবল বাড়ানো কিছু সমস্যা সমাধান করা হলে বীজ সংকট কেটে যাবে বলে তারা জানান।
মাশরুমের অনেক গুণ এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী_ কথা পুষ্টিবিদদের। চিকিৎসকরাও কথা স্বীকার করেন। রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. মনীষা চাকমা বলেন, মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন মিনারেলের এমন সব কিছুর সমন্বয় রয়েছে যা শরীরের ইথুন সিস্টেমকে উন্নত করে। ফলে গর্ভবতী মা শিশুরা নিয়মিত মাশরুম খেলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মাশরুমে চর্বি শর্করা কম থাকায় এটি ডায়াবেটিসের আদর্শ খাবার। মাশরুম নিয়মিত খেলে হৃদরোগ রক্তচাপ নিরাময় হয়।
মাশরুমে ওষুধি গুণ রয়েছে এবং শরীর সুস্থ রাখতে এটি অনেক সহায়ক। তাই মাশরুম আহরণ সম্পর্কে মানুষকে আরও উদ্বুদ্ধ করা উচিত। এছাড়া মাশরুম চাষ আর্থিক দিক থেকে লাভজনক। মাশরুম চাষে সমস্যা যেমন_ বীজ সংকট আর্থিক ঋণের অভাব। এসবের ব্যাপারে সরকারের কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তবেই মাশরুম চাষ আরও সমপ্রসারিত হবে। বাসস (একেএম জহুরুল হক) 

Spicy mushroom fried rice: মসলাযুক্ত মাশরুম ভাজা ভাত !!!

Spicy mushroom fried rice মসলাযুক্ত মাশরুম ভাজা ভাত !!!


Image

Image

Image

Prep Time: 30 minutes.  সংগ্রহ সময়: ৩০ মিনিট.       

Cook Time: 30 minutes. রান্নার সময়: ৩০ মিনিট.

Total Time: 60 minutes. মোট সময়: ৬০ মিনিট

Makes  5  servings.পরিবেশন করুন  ৫ জনের  জন্য.

Ingredients: উপকরন:

  • 1/4 kg mushrooms, cut into  small size. ছোট আকার টুকরো ১/৪ কেজি মাশরুম,.
  • 1 tbs ginger,garlic chopped ১ টে; চামচ আদা, রসুন কুটা .
  • 1 tsp coriander powder. ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া.
  • 1 tsp cumin powder. ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া.
  • 1 tsp all spices  (garam masala) powder. ১ চা চামচ সব মশলা গুঁড়া.
  • 1/2 cup soy sauce. ১/২  কাপ সয়াসস.
  • Salt to taste.  লবণ স্বাদ মত.
  • large onion, large sliced. ২ টি বড় পেঁয়াজ বড় টুকরা করা.
  • 3/4 kg cooked basmati rice. ৩/৪ কেজি বাসমতী চালের ভাত.
  • 100 g butter. মাখন ১০০ গ্রাম.
  • Sugar-1 tea spoon. চিনি ১ চা চামচ.
  • Green chili 10, slice. ১০ টি কাঁচা মরিচ ফালি.
  • 1/2 cup coriander leaves.১ /২ কাপ ধনে পাতা.
Method: পদ্ধতি:


1. Heat butter in a pot on medium heat . Add ginger, garlic chopped cook for 1 min.  চুলাতে মাঝারি তাপের উপর একটি পাএের মধ্যে মাখন গরম করতে হবে. এতে আদা ও রসুন কুচা যোগ করুন,  মিশিয়ে ১ মিনিট এর  জন্য রান্না করতে হবে.

Image

2. Add chili, mushroom, onion, sugar, salt. কাঁচা মরিচ, মাশরুম, পেঁয়াজ, চিনি, লবণ যোগ করুন.

Image

3. Give a nice stir and cook for two mins. একটা চমৎকার নড়া দিন এবং দুই মিনিট জন্য রান্না করা.

Image

4. When water gets evaporated add soy sauce. পানি শুকিয়ে গেলে সয়াসস যোগ করুন.

Image

5.  Saute till the onions begin to turn a pale golden brown in color.  পেঁয়াজ সাঁতলান রঙের একটি ফ্যাকাশে সুবর্ণ বাদামী রং না হওয়া পর্যন্ত  নাড়া চালু  রাখুন

Image


6. Now add boiled rice, then lift the pot 2-3 times like saute. Don’t use any spoon.  এখন সেদ্ধ চাল, দিয়ে তারপর পাত্র টি কে দুই পাশে ধরে ভাল করে ঝাকিয়ে বা সাঁতলানো মত ২-৩ বার করে নিন. কোন চামচ ব্যবহার করবেন না.

Image


Image

7. Add coriander leaves then lift the pot 2-3 times like saute or mix evenly. ধনে পাতা দিয়ে তারপর পাত্র টি কে দুই পাশে ধরে ভাল করে ঝাকিয়ে বা সাঁতলানো মত ২-৩ বার করে নিন বা সমানভাবে মিশিয়ে নিন.

Image


Image

8.  Your mushroom fried rice is ready to eat. Serve with yogurt salad and tomato gravy. আপনার মটন বিরিয়ানি প্রস্তুত. দই সালাদ এবং টমেটো ঝুলের  সঙ্গে পরিবেশন করুন.

Source: http://safrinlipi.wordpress.com

মাশরুম কোন হারাম সবজি নয়, সম্পূর্ণ হালাল

মাশরুম কোন হারাম সবজি নয়, সম্পূর্ণ হালাল 

মাশরুম একটি বহুগুনী পরস্বাদু সবজি। আমরা অনেকে মাশরুম খুব পছন্দ করি। অনেকে আবার এটিকে ব্যাঙের ছাতা ভেবে এটিকে হারাম খাদ্যের সাথে তুলনা করে থাকি। আসলে আমাদের এই ধরানাটি সম্পূনূ ভূল। কারন মাশরুম আর ব্যঙের ছাতা এক জিনিস নয়। ব্যাঙের ছাতা যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠে তা অপরিচ্ছন্ন ও বিষাক্ত। আর মাশরুম পরিচ্ছন্ন ভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতেতে বীজ দ্বারা চাষ করা হয়। শুধু তাই নয় পবিত্ত্র কোরআন ও হাদীসে মাশরুম কে অত্যান্ত মর্যদাকর খাবারের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফে হযরত মোহাম্মদ (স:) বলেছেন, “আল কামতু মিনাল মান্না ওয়া মাহা সাফা আল্ আইন” এর অর্থ “মাশরুম এক শ্রেণীর মান্না ও এর রস চোখের জন্য ঔষধ বিশেষ”। আর এ সম্পর্কে কোরআনে সূরা আল বাকারার ৫৭ নম্বরে আল্লাহ বলেন “অযাল্লানা আলাইকুমুল গামামা ওয়া আনযালনা আলাইকুমুল মান্না-ওয়াস-সালাওয়া কুলুমিন তায়্যিবাতি মা রাযাক্বনাকুম, ওমা জলামুনা আলাকিন কানূ আনফুছাহুম ইয়াযলিমুন” এর অর্থ আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়াদান করেছি এবং তোমাদের জন্য তোমাদের জন্য অত্যান্ত সম্মানিত খাবার পাঠিয়েছি মান্না ওয়া সালাওয়া। অতএব মাশরুম যে একটি হালাল খাবার তা নিয়ে এখন আমাদের কারো মাঝে আর কোন সন্দেহ নেই। আসুন আমরা সবাই বেশী বেশী করে মাশরুম খাই, প্রতিদিনের খাবারের সাখে মাশরুম যুক্ত করি। সুস্থ্য ও সুন্দর থাকি।



মাশরুম ওয়েবসাইট: মাশরুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে

মাশরুম ওয়েবসাইট: মাশরুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে

মাশরুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন: www.namdec.gov.bd


মাশরুম কেন খাবেন ?

মাশরুম কেন খাবেন ?  


মাশরুম ক্লোরোফিলবিহীন ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ এবং নতুন ধরণের সবজি যা সম্পূর্ণ হালাল,সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও উচ্চ খাদ্যশক্তি এবং ভেষজগুণে ভরপুর।এর মধ্যে ২৫-৩০% প্রোটিন আছে যা অত্যন্ত উন্নত ও নির্ভেজাল। এতে উপকারী শর্করা, চর্বি আছে। যে কারণে মাশরুম বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। মাশরুমের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি যে সব ঔষধিগুণ পাওয়া যায় তা নিম্নরূপঃ
গর্ভবতী মা ও শিশুরোগ প্রতিরোধেঃ
মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের এমন সমন্বয় আছে যা শরীরের “ইমিউন সিষ্টেমকে” উন্নত করে। নিয়োসিন ও অ্যাসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি’র প্রাচুর্য থাকায় মাশরুম স্কার্ভি, পেলেগ্রা প্রভৃতি শিশুরোগসহ গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধে উপকারী।
বহুমুত্র প্রতিরোধেঃ
বহুমুত্র বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের শর্করা ও ফ্যাট জাতীয় খাবার ক্ষতিকারক। ফ্যাট ও শর্করা কম এবং আঁশ বেশি থাকায় বহুমুত্র বা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মাশরুম বিশেষ উপকারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের আদর্শ খাবার। নিয়মিত খেলে ব্লাড সুগার কমিয়ে আনা সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ প্রতিরোধেঃ
মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন বি,সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) ও হৃদরোগ নিরাময় হয়।
চর্মরোগ প্রতিরোধেঃ
নানা ধরণের চর্মরোগ নিরাময়ে মাশরুম বিশেষভাবে উপকারী। ঝিনুক মাশরুমের নির্যাস থেকে খুশকি প্রতিরোধী ঔষধ তৈরী করা হয়।
দাঁত ও হাড় গঠনেঃ
মাশরুমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম,ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি আছে। শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে এই উপাদানগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।
ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধেঃ
মাশরুমের বেটা-ডি, ল্যামপট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন আছে যা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে। ফ্রান্সবাসীরা পর্যাপ্ত পরিমাণ মাশরুম খান বলে গত এক শতাব্দী ধরে ক্যান্সার রোগের প্রাদুর্ভাব কম বলে দাবী করা হয়। সম্প্রতি জাপানের জাতীয় ক্যান্সার ইনষ্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাশরুমের ক্যান্সার প্রতিহত করার ক্ষমতা আছে।
এইডস প্রতিরোধকঃ
মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকতে বর্তমানে এটি বিশ্বে এইডস প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।
আমাশয় রোগেঃ
মাশরুমে ইলুডিন এম ও এস থাকাতে আমাশয়ে উপকারী।
হাইপার টেনশনঃ
মাশরুমে স্ফিংগলিপিড এবং ভিটামিন-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ্য রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দুর হয় এবং মেরুদন্ড দৃঢ় থাকে।
পেটের পীড়ায় বা সহজপাচ্য প্রোটিন যোগান দিতেঃ
মাশরুমে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন আছে। এই প্রোটিন সহজপাচ্য, সুস্বাদু ও মুখরোচক। মাশরুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ এনজাইম বিশেষতঃ ট্রিপসিন এবং অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত জারকরস আছে বলে মাশরুম খাদ্য পরিপাক ও হজমে সাহায্য করে, রুচি বর্ধক এবং পেটের পীড়ায় নিরামায়ক।
কিডনির রোগ প্রতিরোধেঃ
মাশরুমে নিউক্লিক এসিড ও এন্টি এলার্জেন থাকায় এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি রোগের প্রতিরোধক।
চুল পড়া ও পাকা প্রতিরোধেঃ
মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড থাকায় এটা নিয়মিত খেলে চুল পড়া ও পাকা প্রতিরোধ করে।
দৃষ্টিশক্তিঃ
মাশরুমের খনিজ লবণ চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষার জন্যও সমাদৃত।
হেপাটাইটিস-বি ও জন্ডিসঃ
মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড ,লৌহ এবং লিংকজাই-৮ নামক এমাইনো এসিড থাকায় হেপাটাইটিস-বি ও জন্ডিসের প্রতিরোধক।
এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতাঃ
শরীরে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে, নিয়মিত মাশরুম খেলে তা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
মাশরুমের খাদ্যগুণ (প্রতি ১০০ গ্রামে)
MSH
আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখুন মাশরুম। মাশরুমের উপস্থিতি আপনার খাদ্যতালিকাকে করবে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও আকর্ষনীয়।

লিখেছেনঃ বৈশাখী 



মাশরুম চাষ কিভাবে শুরু করা যায়?

প্রশ্ন : মাশরুম চাষ কিভাবে শুরু করা যায়? এবং এর চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা বিষয়ক বই থাকলে আমার ই-মেইল ঠিকানায় দয়া করে পাঠিয়ে দিবেন।- Muhammad Ali, alikhan227@gmail.com

উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। বানিজ্যিক ভাবে মাশরুম চাষ শুরু করতে হলে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হলো এর বাজার ব্যবস্থা নিস্চিত করা। অর্থাৎ আপনি কোথায় কারকাছে কতটুকু মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন তার একটি ধারনা নেয়া। এরপর সাভারের সোবাহানবাগে অবস্থিত জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র বা উহার আঞ্চলিক উপকেন্দ্র সমূহ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করা। প্রশিক্ষণ ছাড়া মাশরুম চাষ শুরু করতে গেলে শুরুর দিকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে, তাই এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ জরুরী। আপনি আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযো